২১ জেলায় বোতল গ্যাসের সংকট

0
16
ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি বোতল

ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিপণনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। খুলনাসহ ২১ জেলায় সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। চাহিদামাফিক গ্যাস পাচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা। চড়া দামে বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস কিনছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিপিসির তিনটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যুমনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাস সরবরাহ করে। শুরুতে বিপিসি প্রায় সাত লাখ সিলিন্ডার গ্যাস বিপণন করেছে। ত্রুটির কারণে এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ সিলিন্ডার বাতিল করা হয়েছে। এসব সিলিন্ডারের বয়স ৩০-৪০ বছর। এর পুরুত্ব কমে গেছে। ওজনে হালকা হয়ে গেছে। ওই সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা ও ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে তা এখন ব্যবহার বা বাজারজাত করা হচ্ছে না।

গ্যাস বাদে সাধারণত একটি সিলিন্ডারের ওজন ১৪ দশমিক ৯ কেজি। এর কম হলে তার ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। ওজন কমে যাওয়ার কারণে বিপিসির তিন লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা যাচ্ছে না। আরও এক লাখ ব্যবহার অনুপযোগী। এসব সিলিন্ডারে গ্যাসের গাদ জমে ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে গ্রাহকরা প্রাপ্ত ওজনের গ্যাস পান না। সাড়ে ১২ কেজি গ্যাসের পরিবর্তে ৮-৯ কেজি গ্যাস পান এবং প্রতারিত হন। অবশিষ্ট তিন লাখ সিলিন্ডারের মাধ্যমে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য।

চট্টগ্রাম থেকে খুলনাসহ পদ্মার এ পারে ২১ জেলায় প্রতি মাসে ৬-৭ হাজার সিলিন্ডার গ্যাস আসে বিপিসি থেকে। অথচ শুধু খুলনায় অর্ধলাখ এলপি গ্যাসের গ্রাহক রয়েছে। বিপিসির গ্যাস প্রথমে খালিশপুরের তিনটি ডিপোয় আসে। তার প্রায় ৭০ শতাংশ বিভিন্ন সরকারি দফতর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ পান বিভিন্ন ডিলার। যার ক্রেতা অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্যবান। সাধারণ মধ্যবিত্ত বা নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিপিসির গ্যাস কখনো পৌঁছায় না। এ চাহিদা পূরণ করে মংলার বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি। কিন্তু এখানে রয়েছে মূল্যের হেরফের। বিপিসির সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৭৫০ টাকা। কিন্তু সম ওজনের বেসরকারি কোম্পানির গ্যাসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা, যা ক্রয় করার সাধ্য সাধারণ মানুষের নেই।
ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারের পরিবর্তন করে নতুন সিলিন্ডার রিপ্লেসমেন্ট হবে কিনা এ বিষয়ে বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার আন্তরিক হলে এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। খুলনাসহ ২১ জেলার সাধারণ মানুষের জ্বালানি সংকটের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান জানান, খুলনাসহ ২১ জেলার চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডারজাত গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন সরকারিভাবেই করতে হবে। নাগরিক হিসেবে সরকারের সব সুযোগ সবার সমভাবে পাওয়া উচিত।

– দৈনিক বণিক বার্তা থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here