১৬ কারণে বাঘের জীবন হুমকির মুখে

0
6

সময়ের সাথে সাথে সীমাবদ্ধ হয়েছে বাঘের বিচরণ। দেড়শ বছর আগে ১৭টি জেলায় বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু দিন দিন তা কমে গিয়ে বাঘ এখন কেবল সুন্দরবনেই দেখা মিলে। তবে সুন্দরবনেও ১৬ কারণে বাঘের জীবন হুমকির মুখে।
বুধবার রাজধানীর বন ভবনে টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন।
ইউএসএআইডি’র গবেষক ড. স্বন্দীপ শর্মা বলেন, বাঘের অস্তিত্বের জন্য সুন্দরবনে অন্তত ১৬ ধরনের হুমকি বিদ্যমান। সবচেয়ে বেশি হুমকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- বন ধ্বংস করে কাঠ সংগ্রহ, মাছ ও কৃষিদ্রব্য আহরণ, পশুখাদ্য হ্রাস, বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ। এছাড়া, সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, মিঠা পানি প্রবাহ কমে যাওয়া, শব্দ দূষণ, সাগরের পানিতে এসিড বেড়ে যাওয়া, আগুন লাগা, বসতি স্থাপন, গাছগাছালির রোগ, কলকারখানাসহ বায়ুমণ্ডলের গ্যাস, আক্রমণকারী বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, তাপমাত্রার পরিবর্তন, ঝড় ও জোয়ার ভাটার তারতম্য এবং নদী দূষণও সুন্দরবনের জন্য ব্যাপক হুমকি। যা বাঘের জীবন চক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে যত বাঘ আছে তার ৫০ শতাংশ আছে সুন্দরবনে। তাই সুন্দরবনের (বাংলাদেশ-ভারত) দুই অংশেই সঠিক গবেষণার মাধ্যমে বাঘ রক্ষায় কাজ করতে হবে।
এ সময় বন বিভাগের প্রধান রক্ষক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, সুন্দরবন কেবল জাতীয় সম্পদই নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সম্পদ। আর বাংলা বাঘ কেবল সুন্দরবনেই রয়েছে। এমন বাঘ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের নয়। এটি সারা বিশ্বের জন্যও চ্যালেঞ্জ। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বন রক্ষক ড. তপন কুমার দে, গবেষক ড. স্টিভেন মনফোর্ট, মোহাম্মদ ইকবাল হুসেন প্রমুখ। এছাড়া ভারত, বাংলাদেশ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বাঘ গবেষকরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় তারা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কার্গো বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকেও হুমকি বলে জোর বক্তব্য রাখেন।
এ সময় তারা বাংলাদেশের উজানে ফারাক্কাসহ যতগুলো বাঁধ রয়েছে, তা থেকে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা নেওয়া জন্য গুরুত্বারোপ করেন। এজন্য সরকারের জোরালো ভূমিকা রাখার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
অন্যদিকে, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবকাঠামো গড়ে তোলে স্থায়ী অবস্থানকে সুন্দরবনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের মতে, যে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন যত বাড়বে, তত জীব বৈচিত্র্য নষ্ট হবে।
তবে বক্তারা একমত হন যে, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিলেই সফলতা আসবে না। এজন্য স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবে সুন্দরবন ও এর ইকোলজি স্থানীয় জনগণই রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here