রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে কেন আপত্তি

0
7

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা (তাঁদের মধ্যে আমরা অনেকেই ছিলাম) বিগত ১৯ নভেম্বর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ও তৎসংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা পেশ করেছিল। সে সম্পর্কে আমাদের মতামতসহ পরিদর্শন দলের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলোসুন্দরবন সুরক্ষার উদ্বেগ বেড়েছে
এক. মানুষের আগ্রাসনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সেই আগ্রাসনে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে এবং সুন্দরবনের জন্য হুমকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলন চলছে। আমরাও সেই আন্দোলনে কোনো না কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট। সুন্দরবনের অংশবিশেষ ‘রামসার এলাকা’। তা ছাড়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকা হিসেবে সুন্দরবনের বেশ কিছুটা অংশ ইউনেসকোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। উভয় কর্তৃপক্ষ সুন্দরবন সুরক্ষার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দুই. গত ২ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ পত্রিকায় ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দিয়ে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী চলমান আন্দোলন মোকাবিলা করতে চেয়েছে এবং বলেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সময়ের দাবি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রশ্নে কারও কোনো বিরোধিতা নেই। বিরোধিতা সুন্দরবন সুরক্ষাকল্পে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে।
তিন. বিজ্ঞপ্তিতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত দাবি করে বলা হয়েছে, এ প্রকল্প নিয়ে একটি মহল ও কতিপয় ব্যক্তি বা সংগঠন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, যা অমূলক, ভিত্তিহীন ও দেশের স্বার্থবিরোধী। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, বিরোধিতাকারীরা অতীতে গ্যাস রপ্তানির বিরোধিতা করেছে, নাইকো চুক্তির বিরোধিতা করেছে, সার রপ্তানি এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে বিরোধিতা করেছে, টাটার প্রকল্পে বিরোধিতা করেছে, এশিয়া এনার্জির চুক্তি ও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি খননে বিরোধিতা করেছে এবং ব্যক্তি খাত মালিকানায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করা এবং সেই খনির কয়লা রপ্তানির উদ্দেশ্যে কয়লানীতি প্রণয়নে বিরোধিতা করেছে। এসব বিরোধিতা হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে। আজকের প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালে এগুলোর অনেক কিছুই সমর্থন করেছিলেন। কারণ, বিরোধিতাকারীরা ওই সব বিরোধিতায় দেশের স্বার্থরক্ষা করেছেন এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। ওই সব বিরোধিতা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ অমূলক, ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে। আমরা ওই বিজ্ঞপ্তিসহ এসব কার্যক্রমকে গণস্বার্থবিরোধী বলে গণ্য করি।
চার. গত ২৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ওই প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের রামপাল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণপত্রে বলেছিলেন, রামপালে নির্মিতব্য মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পটি নিয়ে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সুচিন্তিত মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রকল্পটি সম্পর্কে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বিনিময়ের মাধ্যমে এবং সবার সম্মিলিত প্রয়াসে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এই আমন্ত্রণপত্র এবং ওই বিজ্ঞপ্তি সাংঘর্ষিক। এতে প্রতীয়মান হয়, ওই বিজ্ঞপ্তি প্রদানের সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা সরকারের অবস্থানের পরিপন্থী আচরণ করেছেন।
পাঁচ. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নেতিবাচক: (ক) নির্গত কার্বন ও ছাইভস্মে আশপাশের বায়ু ও পানি দূষণ, (খ) নির্গত গ্যাসে বিদ্যমান ভারী ধাতু, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার বায়ুদূষণ এবং (গ) বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য পানি দ্বারা আশপাশের জলাশয়ের পানিদূষণ। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্য প্রাণী রক্ষিত এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল শিল্প এলাকা, শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা বা ফাঁকা জায়গায় স্থাপিত হতে পারে। সরকার প্রজ্ঞাপনে সুন্দরবনের চতুর্দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করেছে। এ রকম এলাকায় প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ কার্যাবলি: (ক) প্রাণী বা উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী সব কার্যকলাপ, (খ) ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে এমন সব কার্যকলাপ, (গ) মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণকারী প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকারক যেকোনো কার্যাবলি। অতঃপর সরকার প্রজ্ঞাপনে ২০১০ সালে সুন্দরবন এলাকার পশুর নদীকে অন্তর্ভুক্ত করে নদী ও খালের বেশ কিছু জলাভূমি জলজ প্রাণী সংরক্ষণের স্বার্থে ‘বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করে। তেলবাহী ট্যাংকার ও মালবাহী কার্গো চলাচল অভয়ারণ্যের প্রাণিকুলের জন্য বিপজ্জনক হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌপথ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন। সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এবং ১০ কিলোমিটারের মধ্যে না হওয়ায়, এই যুক্তিতে দহনকৃত কয়লার মান ও পরিমাণগত তারতম্য বিবেচনায় না নিয়ে কেবল ব্যবহৃত প্রযুক্তির কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনবান্ধব বলা যায় না। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে।
ছয়. রামসার ও ইউনেসকো উভয় কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উদ্বেগ আমলে নেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ উঠেছে। সে সময় এ প্রকল্পের ওপর প্রদত্ত মতামতে পরিবেশ অধিদপ্তর সরকারকে বলেছে, রামসার এলাকায় সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের ওপর এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষতিকারক প্রভাবের ব্যাপারে তারা উদ্বিগ্ন। বন বিভাগও আপত্তি জানিয়েছে। ২০১১ সালে প্রদত্ত পত্রে প্রধান বন সংরক্ষক সরকারকে বলেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবনের বাঘ তথা জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সরকারকে জানিয়েছে, কয়লাবাহী জাহাজ চলাচলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড ছড়ানোর কারণে বন্য গাছপালা ধীরে ধীরে মারা যাবে। একই সঙ্গে অ্যাসিড নিঃসরণের কারণে ভূমির উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাবে। বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো মেঘমালার মাধ্যমে ছড়াবে। নাব্যতা হ্রাস পাওয়া পশুর নদীর সংকট বাড়বে। আলট্রা সুপার থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব কোনো ক্ষতি হবে না, এমন কথা বিজ্ঞানভিত্তিক নয়।
সাত. ইউনেসকো ওই প্রকল্পের ‘ইআইএ’ প্রতিবেদন খতিয়ে দেখেছে এবং বেশ কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি চিহ্নিত করেছে। সেই আলোকে ২০১৩ সালে সরকারের কাছে এ প্রতিবেদন সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে এবং পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে যেসব বিষয় চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন, সেসব নির্ণয়ের জন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বিশেষজ্ঞদের প্রভাব নিরূপণ প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করতে বলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন (এসএএইচআর) কর্তৃক শ্রীলঙ্কা থেকে ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের ‘ইআইএ’ নানা দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ। স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে এ ‘ইআইএ’ করা হয়নি। এ প্রকল্পের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিশেষে ৫৯টি আরোপিত শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে ‘ইআইএ’ অনুমোদন করেছে। এতে প্রতীয়মান হয়, ওই ‘ইআইএ’ মানসম্মত না হওয়ায় অনুমোদনের অযোগ্য ছিল। সুপারিশে এসএএইচআর বলেছে, প্রকল্প কার্যক্রম স্থগিত রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দ্বারা ‘ইআইএ’ করাতে হবে।
আট. বিচার-বিশ্লেষণে দেখা যায়: (ক) রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন ও সেখানকার জীববৈচিত্র্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতিকর—এ প্রশ্নে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মতে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে না। (খ) কয়লা-বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে মাত্রায় দূষক উৎপন্ন হয়, তাতে পরিবেশ দূষিত হয়। রামপালেও কয়লা-বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ দূষিত হবে সত্য। কয়লা পুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিষাক্ত গ্যাস ও বিষাক্ত ধাতব পদার্থ মিশ্রিত ছাই উৎপন্ন হবে; এতে পানি ও মাটি দূষিত হবে। এসব দূষণের কারণে সুন্দরবনের জীব ও উদ্ভিদ বিপন্ন হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির গুণ ও মানের তারতম্যে উৎপাদিত দূষকের দূষণমাত্রা কম-বেশি হতে পারে। কোন পরিবেশে কতটা দূষণ সহনীয়, তা বড় বিবেচ্য বিষয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এখানেই বিপত্তি। এ প্রকল্পের ‘ইআইএ’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, রামপাল গ্রামীণ আবাসিক এলাকা। এমন এলাকা পরিবেশ স্পর্শকাতর নয়। পরিবেশ স্পর্শকাতর এলাকার তুলনায় এমন এলাকার জন্য সহনীয় দূষণমাত্রা অনেক বেশি। বলা হয়, সুন্দরবন থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। সুন্দরবন থেকে এমন দূরত্বে অবস্থিত এলাকাও পরিবেশ স্পর্শকাতর এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন, তা বিবেচিত হলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উদ্ভূত দূষকের দূষণমাত্রা ওই এলাকার জন্য অসহনীয় গণ্য হতো। ‘ইআইএ’ প্রতিবেদনে ওই প্রকল্পের জন্য রামপাল অনুপযুক্ত বলে গণ্য হতো। (গ) ওই প্রকল্পের প্রশ্নে রামপাল কেন পরিবেশ স্পর্শকাতর নয়, সে ব্যাপারে যৌক্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে। তা ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনকল্পে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাদির ফলাফল হিসেবে গাণিতিক মডেলের যেসব সিমুলেটেড ফলাফল দেখানো হয়েছে, তা বিজ্ঞানভিত্তিক যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে। নৌপথে কয়লা আনা-নেওয়া কারিগরি ও পরিবেশগত বিবেচনায় কতটা যৌক্তিক, তা–ও যাচাই-বাছাই হয়নি। এসব কারণে বিজ্ঞানভিত্তিক না হওয়ায় ‘ইআইএ’ অগ্রহণযোগ্য। তাই বলা যায়, সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি আছে।
নয়. রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশবাসী জনপ্রতি মাত্র ৮ ওয়াট বিদ্যুৎ পাবে। এ বিদ্যুতে একটি এনার্জি সেভিং বাল্ব জ্বালানোও কঠিন। এটুকু জ্বালানি নিরাপত্তার কারণে সুন্দরবন কতটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তা বিদ্যুৎ বিভাগ অনুধাবনে অক্ষম। পরিবেশবাদীসহ রামসার ও ইউনেসকো কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ও সুপারিশ আমলে নিয়ে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বার্থ-সংঘাতমুক্ত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেশাদার বিশেষজ্ঞ দিয়ে নতুনভাবে ‘ইআইএ’ করানোর জন্য আমরা সরকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি এবং প্রতিমন্ত্রীও তাঁর আমন্ত্রণপত্রে বলেছেন, সরকার আমাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার আমাদের এ মতামত বা অনুরোধ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
লেখকরা হলেন:
হাসান আজিজুল হক, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সুলতানা কামাল, সৈয়দ আবুল মকসুদ, রাশেদা কে চৌধূরী, ইফতেখারুজ্জামান, বদরূল ইমাম, এম এম আকাশ, শফিক উজ জামান, এম শামসুল আলম, খুশী কবির, আবদুল মতিন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মলয় ভৌমিক, রোবায়েত ফেরদৌস ও শরীফ জামিল |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here