মন্ত্রির সাথে সমঝোতায় নেতারা: পিডিবি ভেঙে কোম্পানি হচ্ছেই

7
12

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে সমঝোতা চুক্তি করেছে পিডিবি ইউনিয়ন নেতারা। আর এই চুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন থেকে সরে গেল তারা।
এখন থেকে রাজশাহি এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন কোম্পানির অধিনে হবে। নতুন কোম্পানি তাদের কাজ শুরু করবে।
বৃহষ্পতিবার পিডিবি ইউনিয়ন নেতাদের সাথে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সমঝোতা চুক্তি করেছেন। জাতীয় সংসদ ভবনে সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে চুক্তি হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী চুক্তিতে সই করেছেন বলে জানা গেছে।
চুক্তি অনুযায়ি, পিডিবিকে হোল্ডিং কোম্পানি করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পিডিবি’র অধীনে অন্য সকল কোম্পানি থাকবে। তবে চুক্তি কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে এই চুক্তি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভাগ মানতে আইনগত বাধ্য থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এটি বিদ্যুৎ বিভাগের কোন সিদ্ধান্ত নয়। প্রতিমন্ত্রীর সাথে ইউনিয়ন নেতাদের প্রতিশ্রুতির চুক্তি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ভেঙে আলাদা কোম্পানি করা নিয়ে অনেক দিন আন্দোলন চলছে। বিতরণ ব্যবস্থায় আর কোম্পানি করার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করে আসছিল পিডিবি’র সংগ্রাম পরিষদ। কিন্তু সরকার বলছে, গ্রাহকদের উন্নত সেবা ও পিডিবি’র লোকসান কমাতে কোম্পানি জরুরী। আর এ নিয়েই আন্দোলন।
সমস্যার সমাধান করতে এর আগে বিদ্যুৎ বিভাগে আলোচনায় বসেছিল প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও ইউনিয়নের নেতারা। উভয়ে তাদের অবস্থানে অনঢ় থেকে শেষ করেছিল সে আলোচনা।
গণছুটি, অবস্থা্ন ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা। সরকার বলছে, কোম্পানি হবেই। ইউনিয়ন নেতাদের দাবি ছিল, না। এরআগেেএবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কোম্পানি করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই – কোম্পানিও হবে আবার আন্দোলনও থেমে যাবে। এমনই পথ বের করার চেষ্টা করছিলেন সংশ্লিষ্ঠরা।

রাজশাহী এলাকার বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এই কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া নিয়েই আন্দোলন চলছে। এরপরে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য আলাদা কোম্পানি করা হবে।
নতুন কোম্পানির ব্যবস্থানা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে তিনি অফিস করতে পারছেন না। এখন পর্যায়ক্রমে পিডিবির কর্মকর্তা কর্তচারিদের কোম্পানিতে নিয়োগ দেয়া হবে।
এরআগে পিডিবি ভেঙে ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো, পিজিসিবিসহ বেশ কিছু কোম্পানি করা হয়েছে। এসব কোম্পানি নিজস্ব কোম্পানি আইনেই চলে। কিন্তু পিডিবি নেতারা চাইছে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ঠ সকল কোম্পানির মালিক পিডিবি থাকবে।

7 COMMENTS

  1. কোম্পানি হলে ভালই হবে। দূর্নীতি কিছুটা কমে আসবে, বিদ্যুত অপচয় কমবে। দেশের মানুষ বিদ্যুতের সেবা ভালভাবে পাবে। ফলে জনগণের হয়রানি কমবে।

    • কোম্পানীতে আপনাদের ক্ষতিই বেশী। ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ কত টাকা দিয়ে কিনতে হবে, ভেবে দেখুন। সহজ বিষয়, বিউবো থেকে বিদ্যুৎ কেনার পর কোম্পানি নিশ্চই লাভ ছাড়া বিক্রয় করবে না! বিউবো যদি আজকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে, এর প্রধান কারণ এর ভর্তুকি, যার লাভ এতদিন পেয়ে আসছিল সাধারণ জনগন। ধন্যবাদ।

  2. নিজের দেশের জিনিস অন্যদের দিয়ে দিচ্ছে বাহ। সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ।

  3. ওজোপাডিকো করে গ্রাহক আরও বেশি হয়রানি হচ্ছে। কারন বাজারে যে তার দেখাগেল ৭০-৮০টাকা গজ কিন্তু তাহদের কাছ থেকে কিন্তে হয় ১৩০টাকা গজ। একে বলে কম্পানি, শুধু এটা নয় মিটার পতি রেট করা ৬০০০টাকা।

  4. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে কোম্পানীতে রূপান্তর করার সরকারী যে সিদ্ধান্ত, তার জন্য মূলতঃ এই সেক্টরের বেশীর ভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই দায়ী। বিশেষ করে বিতরত বিভাগে বছরের পর বছর যে পরিমান বিদ্যুৎ চুরি ও অনিয়ম হয়েছে তা সরকার ও সাধারন জনগনের মনে বিরূপ ধারনার জন্ম নিয়েছে অনেক আগে থেকেই। এই দুর্নীতি ও চুরি কখনই রোধ করা সম্ভব হয়নি।
    এব্যাপারে সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কখনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রকারান্তরে যা হবার তাই হয়েছে। তারা অবৈধ কাজে নিজেকে পুরোপুরি নিমজ্জিত রেখেছে বহাল তবিয়তে।
    আরেকটা ব্যাপার হলো, আমাদের গ্রাহকগনও বিশেষ করে বানিজ্যিক গ্রাহকগনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এতো সুবিধার নয়। তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোম্পানী বা তার নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমানোর জন্য বিদ্যুৎ কর্মীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে এই অসৎ কর্ম জিইয়ে রেখেছে। বিদ্যুৎ চুরির এই অবৈধ উপার্জনের ভাগ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস বা বিতরন বিভাগের A টু Z সকলেই গ্রহন করেছে।
    লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিদ্যুৎ বিভাগকে বিভিন্ন কোম্পানীতে ভাগ করার সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তা সমন্বয় পরিষদের যে বিশাল আন্দোলন, গনছুটি এসকল কর্মকান্ডের প্রভাব কোথাও দেখা যায়নি। সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের সংবাদ কোন মিডিয়াতেই প্রচার হয়নি। তারা আন্দোলন করেছে ঠিকই কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা বিদ্যুৎ বিতরনের কোথাও কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। আন্দোলনেও বিরাট সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
    সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে যে পরিমান বিনিয়োগ করেছে, তার সিকিভাগও যদি বিতরন বিভাগে বিনিয়োগ করতো তাহলে পরিস্থিতি হয়তো এরকম হতো না। বিতরন বিভাগে সেই মান্ধাত্তার আমলের ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়ে গেছে। মিটার পদ্ধতি, লোকবলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের কোন প্রকার প্রচেষ্টা করা হয়নি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু আবাসিক গ্রাহক ছাড়া বাণিজ্যিক সংযোগ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহক সেবা খুবই নিম্নমানের।
    এই পরিস্থিতির উন্নয়ন না করেই সরকার একক সিন্ধান্তে কোম্পানী করনের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে। সরকার কি তাদের কথা একটিবারও ভেবেছে, যারা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রুলস্ রেগুলেশন মেনে তদানুযায়ী চাকুরী নিয়েছে। কেউ না কেউ তো ছিল, যারা সরকারের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে স্ব-ইচ্ছায় সেবা প্রদান করতে এসেছে। তাদের এই দীর্ঘ শ্রমের কি কোনই মূল্য নেই ?
    ইতিমধ্যে কোম্পানীতে রুপান্তরিত ডেসা থেকে ডেসকো, পল্লি বিদ্যুৎ, পিজিসিবি করে কি আদৌ কোন উন্নতি হয়েছে? ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইকে হস্তান্তর কালীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে যে পরিমান পাওনা ছিল তা বেড়ে এখন কয়েক হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এ টাকা আদায়ের কি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ?

  5. মিটার না দেখে আন্দাজে বিল করে গ্রাহকদের প্রতিদিন হয়রানি করা হচ্ছে,অবশ্যই কোম্পানী করে বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানী করা অত্যন্ত জরুরী,শুধু কোম্পানী নয়,প্রাইভেট বিতরণ কোম্পানী করা দরকার,যাতে মোবাইল কোম্পানীর মত সেবা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here