বাশঁখালিতে চরমপত্র: বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল কর

0
2

বাঁশখালিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের চরমপত্র দিয়েছে গণ্ডামারার বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটি।
শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে এই প্রকল্প বাতিল করা না হলে রোববার কাফনের কাপড় পরে উপজেলা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে গণ্ডামারায় আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহবান জানানো হয়।
এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। মামলায় তিন হাজারেরও বেশি গ্রামবাসিকে আসামী করা হয়েছে।
গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীতে গুলিতে নিহত চারজনের স্মরণে গণ্ডামারা ইউনিয়নের হাদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে দুপুরে প্রকল্পটি বাতিলের দাবিতে একই মাঠে এলাকাবাসীর পক্ষে মানববন্ধন করা হয়। এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী গ্রামবাসীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক সুলতানা কামাল, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তারা প্রকল্পটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানায়।

সংঘর্ষে নিহত আনোয়ারুল ইসলামের বড় ভাই বদি আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ চৌধুরী, এনামুল হক সিকদার, আবদুর রহমান, শওকত চাটগামী বক্তব্য দেন।
সভায় বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, এটি কোনো দলের আন্দোলন
নয়, এটি মানুষের আন্দোলন। দুই মাস আগে থেকে শুনতে পাচ্ছি এস আলম মিল কারখানা না করে কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে। এতে দৈনিক ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা জ্বলবে। এর প্রতিবাদে লোকজন সমাবেশে এলে পুলিশ গুলি করে।
সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শক্তিশালী কমিটি গঠন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। সমাবেশে নিহত মতুর্জা আলীর মেয়ে পটু আক্তার বলেন, পুলিশ আমার বাবাকে গুলি করেছে। এর বিচার চাই। নিহত মতুর্জার ফুফু সোনিয়া খাতুন দাবি করেন, তাঁর দুই ভাতিজা ও নাতনি জামাইকে পুলিশই গুলি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে গণ্ডামারা ইউনিয়ন ছাড়াও

আশপাশের সরল, ছনুয়া ও শেখেরিখল এলাকা থেকেও লোকজন স্মরণসভায় আসতে থাকে। দুপুরের পর থেকে লোকজন মিছিল নিয়ে স্মরণসভায় জড়ো হয়। বিদ্যালয় মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আশপাশের সড়কেও লোকজন অবস্থান নেয়।

সংহতি প্রকাশ: গণ্ডামারায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, জনগণের দাবি যৌক্তিক। সরকারের দায়িত্ব জনগণের কথা শোনা। সরকার তা শোনেনি। এখানে জীবনহানির জন্য সরকার ও কোম্পানি দায়ী। কারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের প্রকল্প করার আগে সমীক্ষা করতে হয়। পরিবেশের ছাড়পত্র নিতে হয়। এখানে তা করা হয়নি বলে জেনেছি। পরিবেশের সমীক্ষার পর জনগণের মতামত নিতে হবে। বিশেষ করে প্রকল্প এলাকার। প্রকল্পটির জন্য খাসজমিও নেয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষা ছাড়া প্রকল্পটি করা হচ্ছে।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, সব উন্নয়ন জনগণের জন্য। উন্নয়নের জন্য জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা উন্নয়ন নয়। এ প্রকল্প চাই না। যেটি জনজীবনের জন্য ক্ষতিকর সেটি কেন হবে?
এদিকে বাঁশখালীতে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণফোরাম। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, সময়মতো সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনা সুরাহার উদ্যোগ নিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটত না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here