বাঘ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন মোদী

0
0

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বাঘ সংরক্ষণে অন্যতম বাধা হলো এর শরীরের বিভিন্ন অংশের বিপুল চাহিদা। ভারতকেও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বেআইনিভাবে প্রাণী চোরাচালান রোধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। বন্যা প্রাণী পাচার বন্ধ ও বাঘ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লিতে বাঘ সংরক্ষণে টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রিজ (টিআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদী এই আহবান জানান।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশ ও ভারতের উদ্যোগে যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী। এদিকে, ভারত সফররত পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন।

বাঘ সংরক্ষণে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, টিআরসি’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে বাঘের আবাসস্থল তীব্রভাবে কমে যাচ্ছে। হুমকির মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বাঘ সংরক্ষণের জন্য এই সম্মেলনের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা প্রাণীকূলের এই ‘ছাতা’ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেয়।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি ভালো বনের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে খাবারের প্রয়োজন হয় বাঘের। সুতরাং বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারি। এটা মানবজাতির কল্যাণের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণের সুফল বিশাল। অর্থনৈতিক মানদণ্ডে এই সুফলকে আমরা মূল্যায়িত করতে পারব না। বাঘ শুধু বন্যপ্রাণী নয় বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী। আমি নিশ্চিত টাইগার রেঞ্জের দেশগুলোরও বাঘ সংশ্লিষ্ট অনেক সাংস্কৃতিক যোগসূত্রতা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঘ সংরক্ষণে টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রির এই প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। বাঘ সংরক্ষণে ‘গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ এবং কাউন্সিল’ খুবই ফলপ্রসূ। ২০১০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাঘ সংরক্ষণ সম্মেলনের জন্য বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশ্বে বাঘ রক্ষা ও সংখ্যা বাড়ানোর কর্মসূচি এসব প্রচেষ্টারই ফল।

তাঁর বক্তব্যে বাঘ সংরক্ষণে ভারতের দীর্ঘ সফলতার কথাও তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে ‘প্রজেক্ট টাইগার’ কর্মসূচি চালু করা হয় ভারতে। সমন্বিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফলে ভারতে বাঘের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালের ১৭০৬ থেকে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ২০১৪ সালে ২২২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। বাঘ সংরক্ষণে চলতি বছরে বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে ভারত সরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, চীন, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে। বাঘ সংরক্ষণে আমাদের চলমান সহযোগিতা আরো বাড়বে বলে আমি আশা করি। এছাড়া ভারত গ্লোবাল টাইগার ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দেশ। এটি গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ কাউন্সিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

নরেন্দ্র মোদী বলেন,এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসাবে বাঘ সংরক্ষণে আমি পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিচ্ছি। ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কর্মরত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দিতে পারলে আমরা খুশি হব।

তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণের আলোচনায় সাতশর বেশি বাঘ বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, ব্যাবস্থাপক, দাতা ও অন্যান্য স্টেক হোল্ডাররা অংশ নিচ্ছেন। হুমকির মুখে থাকা বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় সম্মেলনে নানা পদক্ষেপ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। আজ বুধবার সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশের তার অবস্থান তুলে ধরবে। বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১৩টি দেশে বাঘ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, কম্বোডিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, লাও পিডিআর, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম টিআরসি’র অন্তর্ভুক্ত দেশ।

দৈনিক ইত্তেফাকের সৌজন্যে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here