নিজস্ব অর্থে তিনটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল

0
1

সরকারের নিজস্ব অর্থে তিনটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল করা হচ্ছে। ঘোড়াশাল, গোয়ালপাড়া ও বাঘাবাড়ির বর্তমান কেন্দ্রগুলো সংস্কার এবং এর সাথে আরও যোগ করে এই অঞ্চল করা হবে।

এখানে মোট সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। যার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই অর্থ খরচ করা হবে। আমদানি করা গ্যাস দিয়ে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

বৃহষ্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগে নতুন এই পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পাওয়ার সেলের সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কনসালটেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এই পরিকল্পনা করেছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংস্কার করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর জ্বালানি ব্যবহারের পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমানে ঘোড়াশাল ও বাঘাবাড়ি কেন্দ্র দু’টি গ্যাস দিয়ে চলে। আর গোয়ালপাড়া ফার্নেস তেল দিয়ে। সংস্কারের পর এসব কেন্দ্র দুই জ্বালানি অর্থাৎ গ্যাস ও তেল ভিত্তিক হবে। যখন ইচ্ছে সুবিধামত জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

তিন পর্যায়ে কেন্দ্রগুলো সংস্কার করা হবে। প্রথম পর্যায় ২০১৬ থেকে ২০২০ সময়ে, পরে  ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়ে এবং তৃতীয় পর্যায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে।   বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৫৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আগামী ১০ বছরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ছয় হাজার ৫২৫ মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বর্তমানে ঘোড়াশাল এলাকায় এক হাজার ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ি সংস্কার ও নতুন যোগ করে এখানে করা হবে তিন হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট। এজন্য খরচ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। গোয়ালপাড়ায় এখন আছে ২২৫ মেগাওয়াট। সংস্কার ও নতুন যোগ করে করা হবে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এতে খরচ হবে ১০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। বাঘাবাড়িতে আছে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্র। এখানে মোট করা হবে এক হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট। বাঘাবাড়িতে খরচ ধরা হয়েছে আট হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ৪৩ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। পুরো টাকা অর্থায়ন করবে সরকার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচি থেকে এই টাকা খরচ করা হবে।

বৈঠকে নসরুল হামিদ বলেন, একই জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সুশৃঙ্খলিত ও আধুনিকায়ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। বিদ্যমান সম্পদ ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে সুফল বেশি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দ্বৈত জ্বালানির হবে এবং এজন্য অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি ঘনফুট তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নেয় হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানির জন্য চুক্তি করা হয়েছে। আরও ৩০০ কোটি ঘনফুট আমদানির চুক্তি করার চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here